কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়, এমপিদের ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশঃ Aug 19, 2026 - 20:58
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়, এমপিদের ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের সময় কয়েক মিনিটের মধ্যেই চার-পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দূরত্ব যাতে না বাড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা সূত্রে জানা যায়, শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন।

সংসদ সদস্যদের জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ওই নির্বাচনে ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন সময়ের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও সেই মর্যাদা রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও জানান তিনি।

বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনের সময় সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সভায় উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্যেই চার-পাঁচবার কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভাকক্ষে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বৃহস্পতিবারের পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় মির্জা ফখরুলকে আর দেখা যাবে না। তাই তার এ বক্তব্যকে বিদায়ী বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন দলের নেতারা।

পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।’ এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির গুরুত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বহু বছর ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। এ সময় তাকে কারাবন্দীও হতে হয়েছে। সেই সময়ে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশনা দেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। কোনোভাবেই এ ধরনের দূরত্ব বাড়তে দেওয়া যাবে না।

তারেক রহমান জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে না দাঁড়ান, সে বিষয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তারেক রহমানের সাংগঠনিক বার্তা—দুই বিষয়েই বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সংগঠনকে শক্তিশালী রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

-স্বাধীন/ এমএ

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়, এমপিদের ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল
লোগো
Aug 19, 2026

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়, এমপিদের ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta