জাইকার অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান
জাইকার অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সাতক্ষীরার আশাশুনীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন ওই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, পাউবোর সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২-এর অধীনে জাইকার অর্থায়নে টেকসই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ করা হয়।
অভিযানের সময় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রকল্পের এস্টিমেট, মেজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল অব এন্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজ চারটি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাঁধ নির্মাণে ব্যবহৃত ব্লকের গুণগত মান যাচাই করতে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দলের সহায়তায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় নির্মাণাধীন বাঁধে ব্যবহৃত ব্লকের বিভিন্ন অংশের পরিমাপ নেওয়া হয়। মান যাচাইয়ের জন্য আলামত হিসেবে দুটি ব্লক সংগ্রহ করেছে দুদক। পাশাপাশি প্রকল্পের অন্যান্য কাজও পরিদর্শন ও যাচাই করা হয়।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম জানায়, প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের মধ্যে ২ নম্বর প্যাকেজের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২ নম্বর প্যাকেজের কাজের জন্য ব্লক নির্মাণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তবে প্রকল্পে ব্যবহৃত ব্লকের প্রকৃত গুণগত মান এবং অনিয়মের পরিমাণ নির্ধারণে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক।
রেকর্ডপত্র বিস্তারিত যাচাই এবং নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দলের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানিয়েছে দুদক।
-স্বাধীন/এস
জাইকার অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান

