কুমিল্লায় লিফটের নিচে রংমিস্ত্রির লাশ, সিসিটিভি বন্ধ
কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেটের একটি ভবনের ক্যাপসুল লিফটের নিচ থেকে মো. কিরণ মিয়া (৪০) নামে এক রংমিস্ত্রির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ এবং দারোয়ান পলাতক থাকায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেকশনের ‘জনতা ব্যাংক’ ভবন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। কিরণ মিয়া নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে নাশতা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কিরণ মিয়া। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে রাতে ওই ভবনে খোঁজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে লিফটের মেকানিক রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মী রাজু ঘটনাস্থলে এসে ক্যাপসুল লিফটটি খুলে পরীক্ষা করেন। তখন লিফটের নিচে কিরণ মিয়ার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে ভবনের মালিকের ছেলে শুভ তার ভাই সায়েমকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হচ্ছিলেন। এ সময় কিরণ মিয়া সায়েমের কাছে বেতনের টাকা চাইতে ভবনে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাকে মারধর করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনার সময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনার পর থেকে ভবনের দারোয়ানকে পাওয়া যাচ্ছে না।
লিফটের মেকানিক রাজু বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। তখন ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফটের ভেতর কেউ আছেন কি না, তা পরীক্ষা করার পর লিফট খুললে নিচে তার লাশ পাওয়া যায়।
ভবনের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, তারা সারাদিন কিরণ মিয়াকে খুঁজেছেন। পরে ধারণা করেন, তিনি হয়তো ওই ভবনে থাকতে পারেন। এরপর লিফটের নিচে খোঁজ করে তার লাশ পাওয়া যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শরীফ আহমেদ জানান, ভবনের মালিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন সেখানে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
কিরণ মিয়ার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তিনি লিফটের নিচে কীভাবে গেলেন এবং সিসিটিভি কেন বন্ধ ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
-স্বাধীন/এস
কুমিল্লায় লিফটের নিচে রংমিস্ত্রির লাশ, সিসিটিভি বন্ধ

