২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রি, সফল চীনা নারী

প্রকাশঃ Sep 29, 2026 - 11:33
২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রি, সফল চীনা নারী

চীনের ৪৮ বছর বয়সী দং মিন টানা দুই দশকের বেশি সময় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে তিন বছর আগে হঠাৎ করেই ছেড়ে দেন চিকিৎসকের পেশা। এরপর শুরু করেন ভাপা পুরভরা রুটি বা স্টিমড বান বিক্রির ব্যবসা।

শুরুতে অনেকেই তার সিদ্ধান্তে অবাক হলেও সময়ের সঙ্গে ব্যবসায় সফলতা পান দং। প্রতিযোগিতাপূর্ণ খাদ্যব্যবসায় তার দোকান শুধু টিকেই থাকেনি, ভালো ব্যবসাও করেছে। সেই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় শাখাও খুলেছেন তিনি।

চাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দং মিন বলেন, ‘ডাক্তার থাকার সময় প্রায়ই মনে হতো, চাকরি ছেড়ে দিই। এখন বানের দোকান চালাতে গিয়ে আমি ব্যস্ত আর ক্লান্ত থাকি, কিন্তু এত খুশি যে থামতে ইচ্ছে করে না।’

চিকিৎসক থেকে ব্যবসায়ী

১৯৯৯ সালে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন দং। এরপর শেনঝেনে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কয়েক বছর পর উহানে ফিরে মায়ের বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।

মা অবসর নেওয়ার পর ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তারা হুবেই প্রদেশের তিয়েনমেনে নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যান। সেখানে দং একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আইনি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন।

তবে দীর্ঘদিনের পেশায় ক্রমেই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে তার।

দং জানান, রোগী দেখার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরিদর্শন সামলানোসহ নানা চিকিৎসাবহির্ভূত দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হওয়ায় চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে তার ওপরও বাড়তি দায় এসে পড়ত।

কীভাবে শুরু বানের ব্যবসা?

২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের বানের দোকান দেখে এই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী হন দং। শুরুতে তিনি ওই ধরনের একটি দোকানে বিনিয়োগ করেন।

কিন্তু হঠাৎ দোকানের রাঁধুনি চাকরি ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন নিজেই বান তৈরি করা শেখার সিদ্ধান্ত নেন দং। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এই কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং কাজটিতে আনন্দও খুঁজে পান।

শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের পেশা ছেড়ে পুরোপুরি বানের ব্যবসায় মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

‘অন্যরা কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায়-আসে না’

দংয়ের পরিবার প্রথমদিকে তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। কারণ চীনা সমাজে চিকিৎসকের পেশাকে ঐতিহ্যগতভাবে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

তবে দং নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় ৫০ বছর হতে চলেছে, আর আমি অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। অন্যরা আমাকে নিয়ে কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। আমি শুধু এমন একটা জীবন কাটাতে চাই, যা আমি ভালোবাসি, নিজের জন্য বাঁচতে চাই।’

পরে তার মা ও ভাইও সিদ্ধান্তটি মেনে নেন এবং মাঝে মাঝে দোকানের কাজে সহযোগিতা করতে শুরু করেন।

দং বলেন, ‘জীবনে চূড়ান্ত কোনো উত্তর নেই। বদল আনার জন্য কখনোই দেরি হয় না।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, যতদিন শারীরিকভাবে কাজ করতে পারবেন, ততদিন বানের দোকান চালিয়ে যেতে চান।

শুধু দং নন, বদলাচ্ছেন আরও চিকিৎসক

চীনে চিকিৎসকদের ওপর রোগীর চাপ, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন ধরনের পেশাগত ঝুঁকির কারণে অনেকেই মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কথা বলেন।

দং মিনের ঘটনা এমন একটি প্রবণতার উদাহরণ, যেখানে কিছু চিকিৎসক দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে তুলনামূলক ভিন্ন ধরনের ব্যবসা বা কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউউ শহরের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে খাবারের দোকান শুরু করেন। তার দাবি, নতুন ব্যবসা থেকে তার আয় আগের চাকরির তুলনায় বেড়েছে।

চীনের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কমিউনিটি এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপের কথাও উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, চিকিৎসকদের চিকিৎসার বাইরেও বিপুল প্রশাসনিক কাজ ও রোগীর অভিযোগের ঝুঁকি সামলাতে হয়।

দং মিনের গল্প অবশ্য শুধু পেশা পরিবর্তনের নয়—এটি নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ারও একটি গল্প। দুই দশকের বেশি সময় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার পর এখন ভাপা বান বানিয়েই নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।


-স্বাধীন/এস

২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রি, সফল চীনা নারী
লোগো
Sep 29, 2026

২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রি, সফল চীনা নারী

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta