মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও ৩০টির বেশি গন্তব্যে ইরানের ফ্লাইট
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির বিমান চলাচল খাতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ইরানের ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরান থেকে এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। খবর আরব নিউজের।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ চালু রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ফ্লাইটের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে।
ফ্লাইট কমেছে প্রায় অর্ধেক
ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন করেছে অথবা সেখানে অবতরণ করেছে।
অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করেছিল। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর তেহরানের বিমান চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তবে এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। তিনি দাবি করেছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরান থেকে ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে।
ইরান এয়ার ও মাহান এয়ার সবচেয়ে বেশি চাপে
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের দুটি প্রধান বিমান সংস্থা—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরান এয়ার এবং বেসরকারি মাহান এয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাহান এয়ার পরিচালনা করেছে পাঁচটি এবং ইরান এয়ার দুটি। নিষেধাজ্ঞার আগে দুই সংস্থাই প্রতিদিন প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বিদেশি কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন।
বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিমান কোনো দেশে অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা কিংবা টিকিট বিক্রির মতো সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘একতরফা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এ বিষয়ে জাতিসংঘের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরান বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
চীনও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে মাহান এয়ারের ফ্লাইট চলাচলও অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভিন্ন অবস্থান
রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গেও ইরানের বিমান যোগাযোগ চালু রয়েছে। তবে এই দুই দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করেছে মাহান এয়ার। বিমান সংস্থাটি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছে। তবে ইরান এয়ার এখনো প্রতিদিন ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ইরানের আরও কয়েকটি ছোট বিমান সংস্থা তুরস্কের অন্যান্য শহরে ফ্লাইট চালাচ্ছে। এ ছাড়া আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়াতেও এখনো ইরানের বিমান চলাচলের ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়নি। এসব দেশে মূলত ইরানের ছোট বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করে।
ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানা দেশ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবে ইরানি যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের সব ফ্লাইট ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত করেছে।
ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ফ্লাইট সংখ্যা কমেছে এবং দেশটির প্রধান বিমান সংস্থাগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে।
-স্বাধীন/এস
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও ৩০টির বেশি গন্তব্যে ইরানের ফ্লাইট

