হরমুজ সংকটে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা
২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ব তেল সরবরাহে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের এক তালিকা অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যায়। মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ।
গত পাঁচ দশকের বিভিন্ন যুদ্ধ ও তেল সংকটের তুলনায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি এই সংকটের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দৈনিক প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে গিয়েছিল, যা তালিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাটতি।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আরব তেল অবরোধ। আর চতুর্থ অবস্থানে আছে ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলা। উভয় ঘটনায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেল করে তেল সরবরাহ কমেছিল।
১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দৈনিক সরবরাহ ঘাটতি ছিল প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল। অন্যদিকে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রভাবে প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যায়।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে দীর্ঘ সময় ধরে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলে নৌপথটি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হলেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।
তবে তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতেই রয়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
হরমুজ সংকটে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা

