হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রতিবছর দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদরোগের কোনো লক্ষণ বা সতর্কসংকেতকে অবহেলা করা উচিত নয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছেন। এ কারণে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, মানুষ সচেতনতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানলেও অনেক সময় তা দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করে না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অবহেলা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হৃদয়ের কোনো ধরনের সংকেত বা সতর্কবার্তা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চিকিৎসকদের সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের বিপদের সময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান। করোনাভাইরাস মহামারি, ডেঙ্গু এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তাদের এই মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদিরসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
এর আগে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে আয়োজিত র্যালিতেও অংশ নেন তিনি।
এবার বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’। বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজনে কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি হৃদরোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
-স্বাধীন/এমএ
হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

