স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি

প্রকাশঃ Sep 1, 2026 - 16:51
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম পরওয়ার।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি বিষয়ে সম্মতির কথা জানানো হলেও কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশ করায় ক্ষোভ জানান গোলাম পরওয়ার। নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মধ্যে কাজ করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণাসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন। ফলে শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমঅধিকার নীতির পরিপন্থি ও বৈষম্যমূলক। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে এ বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দ্বিতীয় দাবিতে জামায়াত বলেছে, সরকার যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। দলটির মতে, নিষিদ্ধ দলের পদধারী ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়াও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়নি জামায়াত।

ইসি সচিবালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা এমন ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে জামায়াত। বিষয়টি শুধু সরকারকে জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রশাসককে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি।

জামায়াতের দাবি, তপশিল ঘোষণার পর কোনো প্রশাসক পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ওই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তাই দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না। আগ্রহী প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলোর নিজস্বভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ওই ঐক্যের কোনো বাধ্যবাধকতা বা সমঝোতার শর্ত নেই।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে ৯ দফা দাবি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।

-স্বাধীন/এমএ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি
লোগো
Sep 1, 2026

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসিতে জামায়াতের ৯ দফা দাবি

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta