বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ইরানের
ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের মধ্যে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। মার্কিন বাহিনী অভিযানটিকে সফল বলে দাবি করলেও ইরানের সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের বিয়ের আসর পরিণত হয় শোক আর আতঙ্কের দৃশ্যে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরপরাধ মানুষের ওপর এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার শিশু ও সাধারণ মানুষকে হামলার শিকার করছে।
তবে ইরানের এই অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার দাবি, মার্কিন বাহিনী কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
এদিকে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, গত রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানকে ‘খুব শক্ত আঘাত’ করেছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও যেকোনো সময় আবার হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং ইরানের রাডার ও মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ধ্বংস করেছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রাণহানি—সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি
-স্বাধীন/এমএ
বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ইরানের

