ব্রিকসের ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’
মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন ও একতরফা শুল্কের নিন্দায় ১১ দেশ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ (ইউএনএসসি) বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত পরিবর্তনের জোর দাবি জানিয়েছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ‘একতরফা যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপের’ও নিন্দা জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
তবে ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ অনুমোদন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, সম্মেলনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সনদ গৃহীত হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোর আরও বেশি ভূমিকার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া। পাশাপাশি আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ও আঞ্চলিক মুদ্রায় ব্রিকস সদস্যদের পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের বাস্তবতায় পুরোনো কাঠামোর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং এসব প্রযুক্তি পরিচালনার নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
মোদী আরও বলেন, গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ ব্রিকস সদস্যদের যৌথ অঙ্গীকারের একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। একই সঙ্গে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে জোটটি।
একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ ও তা বাড়ানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিওর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ব্রিকস নেতারা জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা মোকাবিলা এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার পূরণে ডব্লিউটিওর কার্যকারিতা বাড়াতে তারা যৌথভাবে কাজ করবেন।
ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মতো ইস্যুতে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় সম্মেলনে যৌথ ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মতপার্থক্য সামলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন জোটের নেতারা।
-স্বাধীন/এমএ
মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন ও একতরফা শুল্কের নিন্দায় ১১ দেশ

