আইএমএফের পূর্বাভাস

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

প্রকাশঃ Aug 28, 2026 - 18:37
২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সে সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার আরও বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসবে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো থেকে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

২০৩০ সালেও শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। দেশটির নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, যার সম্ভাব্য জিডিপি ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জার্মানি। দেশটির অর্থনীতির আকার ৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে। এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে চীনের।

তবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে জার্মানির সঙ্গে ভারতের ব্যবধান খুবই সামান্য। ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।

অর্থাৎ দুই দেশের অর্থনীতির ব্যবধান দাঁড়াতে পারে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নামমাত্র জিডিপির হিসাবে ভারত জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) বিবেচনায় ভারত ইতোমধ্যে জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।

বাড়বে এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি
২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এ অঞ্চলের দখলে থাকবে।

চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জাপান। দেশটির জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ও ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার।

একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল জাপান। তবে কয়েক দশক ধরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে। ২০১০ সালে চীন জাপানকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২০২৪ সালে জার্মানিও জাপানকে পেছনে ফেলে।

ইউরোপে থাকবে তুলনামূলক ভারসাম্য
২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থাকবে ইউরোপের দখলে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত নামমাত্র জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে জার্মানির। এরপর থাকবে ফ্রান্স ও ইতালি। দেশ তিনটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২, ৪ ও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইইউর বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাজ্যের অবস্থান থাকবে। ২০৩০ সালে দেশটির জিডিপি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরপর থাকবে রাশিয়া, যার সম্ভাব্য অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

তবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া হবে এমন কয়েকটি দেশের একটি, যাদের অর্থনীতি এ সময়ে সংকোচনের মুখে পড়তে পারে।

-স্বাধীন/ এমএ

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ
লোগো
Aug 28, 2026

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta