হাসনাত আবদুল্লাহকে রফিকুল মাদানীর কড়া হুঁশিয়ারি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার ‘বিতর্কিত বক্তব্য’ প্রত্যাহার করে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো কর্মসূচি বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না বলে সতর্ক করেছেন ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, স্থানীয়রা ভালোবেসে এই প্রতিষ্ঠানকে ‘আমাদের জামিয়া’ বলে অভিহিত করেন। জামিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ঘটনা বা সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে দোকানদার, কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক ও নারীরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তা রক্ষায় এগিয়ে আসেন।
হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে মাদানী বলেন, বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো কর্মসূচি করতে পারবেন না। তিনি বিষয়টিকে ‘ফাইনাল’ বলেও উল্লেখ করেন।
কেউ ‘হাসিনা স্টাইলে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো কিছু করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, সারা দেশেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন মাদানী।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহ দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আঘাত পেলে যেমন প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, তেমনি ক্ষমা করতেও জানে। ক্ষমা চাইলে তারা আবার আপন করে নিতে পারে।
নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামাই উল্লেখ করে মাদানী বলেন, এ এলাকার মানুষের আবেগ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই অবগত।
এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা মন্তব্য করেছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। হাসনাত দুঃখ প্রকাশ করলে এসব মন্তব্যকারী আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, হাসনাতের শারীরিক গঠন নিয়ে করা মন্তব্যগুলো কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়। যারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাদের নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাদানী তার পোস্টে লেখেন, ‘আমরা নায়েবে নবী, আমাদের প্রতিবাদও সুন্দর হওয়া চাই।’
পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত আবদুল্লাহকে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টির ইতি টানার আহ্বান জানান রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ হাসনাতকে ছোট করে কোনো সুবিধা নিতে চায় না; বরং তারা তাকে ভালোবাসত। হাসনাত নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা সংশোধন করলে স্থানীয় মানুষ তাকে আগের মতোই ভালোবাসবে।
-স্বাধীন/এমএ
হাসনাত আবদুল্লাহকে রফিকুল মাদানীর কড়া হুঁশিয়ারি

