স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশঃ Aug 30, 2026 - 13:31
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর যেন চোখের পানি ফেলতে না হয়, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। গুমের ঘটনায় শুধু একজন ব্যক্তির অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয় না, এর প্রভাব পড়ে তার পরিবার ও স্বজনদের ওপরও। এতে তাদের শান্তি, স্বপ্ন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নষ্ট হয়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের আশ্রয় এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু গুম ও হত্যার মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় গুম ও গোপন বন্দিশালার ভয়াবহতা বাংলাদেশের মানুষের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। এমনকি অনেককে গোপনে হত্যা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের স্বজনরা এখনো দুঃখ, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার মধ্যে দিন পার করছেন।

তিনি আরও বলেন, আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ ভিন্নমতাবলম্বী কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘ সময় ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের কেউ কেউ ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশন এক হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে গুমের বিচার ও প্রতিরোধে সামনে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এবং গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

-স্বাধীন/এমএ

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি
লোগো
Aug 30, 2026

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta