জ্বালানি সংকট নিরসনে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ Sep 2, 2026 - 19:42
জ্বালানি সংকট নিরসনে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসন ও ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, সিসমিক জরিপ পরিচালনা, বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করা, প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং কার্যক্রম এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫, মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার সমন্বিতভাবে পাঁচটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কারণে দেশের জ্বালানি খাত অনেকটা পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার ফলে সৃষ্ট বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান আরও ৭টি কূপের খননকাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি কূপগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, অফশোর ও অনশোর এলাকায় নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্র এলাকায় কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই টার্মিনালের মাধ্যমে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি দৈনিক আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়তে পারে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।

-স্বাধীন/এমএ

জ্বালানি সংকট নিরসনে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
লোগো
Sep 2, 2026

জ্বালানি সংকট নিরসনে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta