এনআইডিসহ সব পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে আসছে ‘এক-আইডি’

প্রকাশঃ Sep 3, 2026 - 16:28
এনআইডিসহ সব পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে আসছে ‘এক-আইডি’

দেশের প্রতিটি নাগরিককে জন্মের পরই একটি একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামে এই পরিচয়পত্রটি একজন নাগরিকের আজীবন স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের উদ্যোগ রয়েছে।

এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ‘ডি-স্টার’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।

বর্তমান ব্যবস্থায় জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়সে দেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। তবে প্রস্তাবিত ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। জন্মের পরপরই নাগরিককে এই একক পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন কমে আসবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একক পরিচয়পত্র চালু হলে পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের কার্যকারিতা এর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বর্তমানে যেসব সেবা পাওয়া যায়, ভবিষ্যতে সেগুলোও ‘এক-আইডি’র মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, একক পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ নতুন এই ব্যবস্থার ধারণাকে ‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ প্রত্যেক নাগরিকের একটি পরিচয়পত্র থাকবে, যা একই সঙ্গে তার ডিজিটাল পরিচয় হিসেবে কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে নতুন পরিচয়পত্রে ঠিক কী কী তথ্য থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২০ কোটি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই মার্কিন ডলার, যা বর্তমান হিসাবে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর সঙ্গে প্রতিটি কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে আরও এক মার্কিন ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ফলে উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডের জন্য মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হিসেবে রাখা হয়েছে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং কার্ড বিতরণ। এ খাতে মোট ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র ও শনাক্তকারী নম্বর চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে।

-স্বাধীন/এমএ

এনআইডিসহ সব পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে আসছে ‘এক-আইডি’
লোগো
Sep 3, 2026

এনআইডিসহ সব পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে আসছে ‘এক-আইডি’

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta