তিন বছরে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশঃ Sep 3, 2026 - 17:29
তিন বছরে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রশ্নে মো. রুহুল আমিন জানতে চান, দেশে বর্তমানে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, বন্ধ কারখানাগুলোর তালিকা ও কারণ কী এবং পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টিসহ চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানার নামের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা।

এ ছাড়া অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিং সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জোরদার করা হবে।

-স্বাধীন/এমএ

তিন বছরে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
লোগো
Sep 3, 2026

তিন বছরে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta