কুইক রেন্টালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হওয়া উচিত: বিইআরসি চেয়ারম্যান
বিগত সময়ে কুইক রেন্টালের নামে কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে তৎকালীন সরকার অনিয়ম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, কুইক রেন্টালের নামে দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ সাধারণত তিন বছর হওয়ার কথা ছিল এবং সে সময় বিদ্যুতের দাম ছিল ১৬ টাকা। কিন্তু বিনিয়োগের অর্থ উঠে যাওয়ার পরও নবায়নের সময় শুধু পরিচালন ব্যয়ের (অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার) ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ না করে প্রায় আগের দামেই বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। ফলে কুইক রেন্টালের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা খুব বেশি নেই। তবে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ঘাটতি কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। এজন্য সরকারকে নীতি সহায়তার পাশাপাশি কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন।
জালাল আহমেদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিশন বাণিজ্যের স্বার্থে এলএনজি আমদানির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পতিত সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও তোষণমূলক। ওই সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ধারাবাহিক অনিয়মের মাশুল এখন শিল্প উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ের জ্বালানি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা হলে তা তাদের প্রতি অবিচার হবে।
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)কে পরাজিত করে সরকারি বাঙলা কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
-স্বাধীন/এমএ
কুইক রেন্টালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হওয়া উচিত: বিইআরসি চেয়ারম্যান

