প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ফেনীবাসীর যত প্রত্যাশা

প্রকাশঃ Sep 9, 2026 - 12:44
প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ফেনীবাসীর যত প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাবেন। তার আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় পর্যায়েও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

তবে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের নানা দাবি ও প্রত্যাশা পূরণের আশাও করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তারেক রহমানের প্রথম ফেনী সফর। এ সময় মুহুরী-কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রশাসন ও দলীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

গত ২৫ আগস্ট পরশুরামে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় দলীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, ফেনীর মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা বন্যার স্থায়ী সমাধান। প্রতিবছরই বন্যা ও নদীভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর, এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন বলেন, বন্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা- প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দাবিও তুলে ধরা হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর জানা রয়েছে এবং তিনি ইতিবাচক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছি।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল জানান, আগামী পাঁচ বছরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। সেই উন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবর্তন ফেনীবাসীও দেখতে চায়।

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ বলেন, ফেনীবাসীর কাছে তারেক রহমান শুধু একজন নেতা নন, পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্কের কারণেও তিনি অত্যন্ত আপনজন। তাই তার কাছে প্রত্যাশাটাও বেশি।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে ফুলগাজীর উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তারা আশা করছেন। বিশেষ করে ফুলগাজীতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা, ফুলগাজী সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং খালেদা জিয়া কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ চান তারা।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ফেনী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা বলেন, ফেনীর সঙ্গে তারেক রহমানের পারিবারিক ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই তার কাছে ফেনীবাসীর প্রত্যাশাও অনেক বেশি। ফেনীকে একটি আধুনিক ও মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করেন তিনি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে বিএনপির প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সুধী সমাবেশ ও জনসভা সফল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও কাজ করছেন তারা।

তিনি বলেন, ফেনীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা মানুষের প্রাণের দাবি। এ ছাড়া একটি ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। তার সফরের মাধ্যমে ফেনীর উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করেন তিনি।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদীর বাঁধ নির্মাণ এবং সীমান্তের ওপার থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার স্থায়ী সমাধান চান ফেনীবাসী। পাশাপাশি নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ফেনীর লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণও দীর্ঘদিনের দাবি। এটি নির্মাণ না হলে লালপুল প্রতিদিনই মরণফাঁদ হয়ে থাকবে। এ ছাড়া ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি তুলে ধরে বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ আশা করছেন তারা।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, দীর্ঘদিনের বাঁধ নির্মাণের দাবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে আসছেন। তার সফর ঘিরে ফেনীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ফুলগাজীকে পৌরসভায় উন্নীত করা, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করাসহ স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এসব বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশার তালিকা তাই বেশ দীর্ঘ। তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধ। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ফেনী সফর ঘিরে এসব দাবি ও প্রত্যাশা কতটা গুরুত্ব পায় এবং কতটা বাস্তবে রূপ নেয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে ফেনীবাসী।


-স্বাধীন দিগাস্ত/ এস

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ফেনীবাসীর যত প্রত্যাশা
লোগো
Sep 9, 2026

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ফেনীবাসীর যত প্রত্যাশা

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta