আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণের শুনানি

প্রকাশঃ Sep 8, 2026 - 12:50
আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণের শুনানি

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল ৪ হাজার ৯১৫ দিন পর গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে শুনানি হবে আপিল বিভাগের অবকাশকালীন ছুটির পর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন আদালত।

পরে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল বিভাগে অবকাশকালীন ছুটি থাকবে। ছুটি শেষে আদালতের কার্যক্রম শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ পর আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হবে।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পান আবুল কালাম আযাদ।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

রাষ্ট্রপতির ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী মশিউল আলম জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এরপর ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে আপিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের আবেদন করেন আবুল কালাম আযাদ। পরবর্তী সময়ে তিনি আপিল করেন। সেই আপিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণ করা হবে কি না, এবার সেই প্রশ্নেই আপিল বিভাগে শুনানি হবে।


-স্বাধীন দিগাস্ত/ এস

আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণের শুনানি
লোগো
Sep 8, 2026

আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণের শুনানি

লোগো
বিস্তারিত কমেন্টে
shadhindiganta.com
/ Shadhin Diganta